পৌষমেলা নেই, মন খারাপ শান্তিনিকতনের
দি নিউজ লায়ন ; বিষন্নতায় গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী। পৌষ মেলা নেই, মন খারাপ শান্তিনিকতনের।সেই কারণে এবার বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার শতবর্ষে ও পৌষমেলায় ছেদ পড়লো বিশ্বভারতীতে। তবে ঐতিহ্য মেনে একান্ত ঘরোয়া ভাবেই বিশ্বভারতী পৌষ উৎসব পালন করবে। আজ ৭ পৌষ ছাতিমতলায় উপাসনার মধ্য দিয়ে সূচনা হলো পৌষ উৎসবের।
বিশ্ব ভারতী সূত্র মারফত জানা গেছে, ১৮৪৩ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠিক করলেন, দীক্ষিত ব্রাহ্মদের নিয়ে একটি মেলা করবেন।১৮৪৫-এর ৭ পৌষ, কোলকাতার অদূরে মেলা বসল গোরিটির বাগানে। পরে ১৮৬২ সালে বোলপুরে জনবিরল প্রান্তরের মধ্যে দুটি নিঃসঙ্গ ছাতিম গাছের তলায় মহর্ষি সন্ধান পেলেন তাঁর শান্তিনিকেতনের।পরে রায়পুরের জমিদার সিংহ পরিবারের কাছ থেকে মৌরসীস্বত্বে কিনে নিলেন ।পরে ১৮৮৮ সালে ২২ মার্চ মহর্ষি শান্তিনিকেতন ট্রাস্টডিড করে লিখলেন, ‘‘ধর্মভাব উদ্দীপনের জন্য ট্রাষ্টীগণ বর্ষে বর্ষে একটি মেলা বসাবার চেষ্টা ও উদ্যোগ করিবেন।’’ যে ডিডে পৌষ মেলা করার নির্দেশ রয়েছে।
১৮৯১ সালের ২১ ডিসেম্বর (১২৯৮ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ) শান্তিনিকেতনে ব্রাহ্মমন্দির স্থাপিত হয়।ব্রাহ্মমন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণে মন্দিরের উল্টোদিকের মাঠে একটি ছোটো মেলা আয়োজন করা হয়েছিল। শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, "মহর্ষির ইচ্ছা অনুসারে শান্তিনিকেতনে পৌষমেলা প্রথম বসল ১৮৯৪ সালে, ৭ পৌষ। মন্দিরের সামনের মাঠে স্থানীয় দের নিয়ে বসে প্রথম পৌষ মেলা।তবে মাঝে দুবার মেলা হয়নি। এবার ও অতিমারীর কারনে পৌষ মেলা করা যাবে না।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারই প্রথম নয় আগেও দুবার পৌষ মেলা হয় নি। ১৯৪৩ সালে মন্বন্তরের সময়। এবং ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় দাঙ্গার কারনে। ফের ২০২০ সালে করোনা অতিমারীর কারনে পৌষ মেলা বন্ধ থাকবে।তাই মন খারাপ শান্তিনিকেতনের ।বিশ্বভারতীর গবেষক ছাত্রী মীনাক্ষী ভট্টাচার্য বলেন, "পৌষ মেলা আর পাঁচটা মেলার মতো না, পৌষ মেলা কবিগুরুর শান্তিনিকেতনের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। মেলায় স্থানীয় পণ্য বিপননের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমও।
শান্তিনিকেতনের স্বপন কুমার ঘোষ বলেন," শান্তিনিকেতনে ব্রাহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠা ও তাকে কেন্দ্র করেই পৌষমেলার সূচনা হযেছিল। সেই পৌষমেলা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক মানের রূপ নিয়েছে। আজ পৌষমেলা গ্রাম ও শহরের সংস্কৃতি সেতু রচনা করছে। তার উপর এবছর পৌষমেলার শতবর্ষ ।অতিমারীর কারনে পৌষ মেলা বন্ধ। তাই পৌষমেলার কথা ভাবলে মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে পৌষমেলার স্বাদ মেটাতে বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে বসেছে প্রতীকি পৌষমেলা। দুপুরে মেলায় ঘুরতে আসেন সাংসদ দোলা সেন ও মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। মেলা শেষ হবে আগামী রবিবার৷ এই মেলা বসাতে খুশি বাউল শিল্পীরা। বাউল শিল্পী তরুন দাস বাউল জানান,বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী পৌষ মেলা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে আর্থিক অনটনের মুখে পড়েছে হাজার হাজার বাউল শিল্পী, এ-ই মেলা হবার জন্য হাসি ফুটেছে বাউলদের মুখে।

Post a Comment